Help Poor people to Donate Here

নতুন নতুন ফর্মুলা গণতন্ত্র ব্যাহত করতে পারে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মদিনা সনদ অনুযায়ী দেশ চলবে। বাংলাদেশ হবে রাজাকার-আলবদরমুক্ত অসামপ্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক দেশ; যে দেশে ধর্মপ্রাণ মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের ধর্ম পালন করবে। এটি নবী করিম (সা.) তাঁর বিদায়ী ভাষণে বলেছেন। গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে পাবনা জেলার তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সভাপতির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ হত্যা বন্ধ করুন। এসব করে মনের আকাঙ্খা পূরণ হবে না। যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে পারবেন না। অপরাধ যা করেছেন, মামলা থেকে বাঁচতে পারবেন না। নির্বাচনের আগে নতুন 'ফর্মুলা' গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে পারে বলে মনে করন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, নতুন নতুন ফর্মুলা দিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করলে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকবে না। দুই প্রধান দলের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যে টিআইবির নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা উপস্থাপনের পরদিন প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন, তবে তিনি টিআইবির প্রসঙ্গ উল্লেখ করেননি। টিআইবির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দুই প্রধান রাজনৈতিক জোটের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে 'সংসদীয় ঐকমত্য কমিটি' হবে। এই কমিটি নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধানসহ ১১ সদস্যের নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা মনোনীত করবে। বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন টিআইবিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে আলোচনার পরিবেশ প্রয়োজন এবং তা সরকারকে তৈরি করতে হবে। নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে যারা 'ফর্মুলা' দিচ্ছেন, তাদের বিশ্বের অন্য দেশগুলোর সংসদীয় গণতন্ত্রের রীতি পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তার লক্ষ্য হচ্ছে দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যহত রাখা। কেউ যেন জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে না পারে। বিএনপি চেয়ারপারসন 'লাশ ফেলে' ক্ষমতায় যেতে চান দাবি করে তিনি বলেন, উনি মনে করেন, কয়েকটা লাশ ফেললে আর্মি এসে উনাকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর বিদ্রোহের আগে নিরাপত্তা ছাড়াই বিরোধীদলীয় নেতার তার সেনানিবাসের বাসা থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উনি যেটা ঘটাতে চাচ্ছিলেন, আমরা তা আটকেয়েছি। তবে, আমরা অনেক ব্রিলিয়ান্ট অফিসারদের হারিয়েছি। ২০০১ সালে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ 'বিক্রির মুচলেকা' দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল দাবি করে তিনি বলেন, যমুনায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান লতিফুর রহমানের বাসায় মিটিং হয়। আমার সঙ্গে ছিলেন জিল্লুর রহমান। আর খালেদা জিয়া ও মান্নান ভূঁইয়া (প্রয়াত) ছিলেন। আমেরিকার পক্ষে ছিলেন জিমি কার্টার। আমি চলে এলাম। উনি (খালেদা জিয়া) থেকে গেলেন। মুচলেকা দিয়ে আসলেন। বিরোধীদলীয় নেতার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ধৈর্য ধরছি। ধৈর্য ধরা মানে দুর্বলতা নয়। হরতাল দিয়ে মানুষ মারার অধিকার কে দিয়েছে? জনসাধারণের বাসভবন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গাড়িতে অগি্নসংযোগের ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, এখন যদি বিরোধীদলীয় নেতৃবৃন্দের মূল্যবান যানবাহনে এবং তাদের বাসস্থানে অগি্নসংযোগ করা হয়, তাহলে কোথায় যাবেন? বিরোধী দলের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের তো সহ্যের সীমা আছে? যু্দ্ধাপরাধীদের রক্ষায় আপনারা মানুষ হত্যা করবেন- আর আমরা বসে থাকব? ফটিকছড়িতে মসজিদের মাইক ব্যবহার করে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে হরতালবিরোধী মিছিলে হামলার প্রসঙ্গ ধরে তিনি বলেন, মাইক ব্যবহার করে মিথ্যা ঘোষণা দেয়া- এটা কোন ইসলাম হেফাজত করে? বিরোধীদলীয় নেতা যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য মানুষ হত্যার পরিকল্পনা নিয়েছেন অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইয়াহিয়া যেমন ১৯৭১ সালে পোড়ামাটি নীতি অনুসরণ করে বলেছিলেন- এ দেশের মানুষ চাই না, মাটি চাই। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াও বোধ হয় সে নীতি অনুসরণ করছেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তিনি আগুন দিয়ে মানুষ পোড়াচ্ছেন, মানুষ হত্যা করছেন। মানুষ হত্যার খেলায় মেতে উঠেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখনই মামলার তারিখ পড়ে তখনই হরতাল দেন, জ্বালও পোড়াও করেন, মানুষ হত্যা করেন। অপরাধ যদি না করে থাকেন তাহলে মামলায় হাজিরা দিতে ভয় কিসের। অপরাধ করে থাকলে তার শাস্তি পেতে হবে। বিরোধী দলীয় নেতার প্রতি মানুষ হত্যা বন্ধ করার?ও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন,যে কোনো ধর্ম অবমাননা বরদাস্ত করবো না। নবী করিমকে (সা.) কটূক্তি করলে আমরা ব্যবস্থা নেবো। আবার কাবা শরীফের গিলাফ নকল করা এটাও আমরা বরদাস্ত করবো না। এসময় হেফাজতে ইসলাম যেসব দাবির কথা বলেছে এর েযৗক্তিকতাগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে বলেও জানান তিনি। এসময় খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, হেফাজতের উপর উনি (খালেদা জিয়া) নাখোশ হয়েছেন। উনি চেয়েছিলেন তারা দুই-একদিন বসে থেকে উনাকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিয়ে যাক। প্রধানমন্ত্রী হরতালে গাড়িতে আগুন, রেল লাইনের ফিস প্লেট খুলে েফলা, মানুষের বাড়িতে আগুন, ভাঙচুর, মসজিদের মাইক ব্যবহার করে উস্কানি দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, তারা মানুষ হত্যা করবে, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেবে আর আমরা বসে বসে দেখবো এটা হতে পারে না। সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাজেদা চৌধুরী, মতিয়া চৌধুরী, এ কে খন্দকার, মোহাম্মদ নাসিম, মাহবুব-উল-আলম হানিফ, আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ ও জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রমূখ।

No comments

Please do not inter any spam

Powered by Blogger.