ফটিকছড়িতে তান্ডব : ওসি প্রত্যাহার
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুরের কাজীরহাটে আওয়ামী লীগের মিছিলে হামলা সামাল দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুদ্দীন ভূঁইয়াকে গতকাল শনিবার প্রত্যাহার করা হয়েছে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান বলেন, ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কারণ, বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের নেতারা তাঁকে জানিয়ে ভুজপুরে মিছিল নিয়ে যান। এরপর যা ঘটেছে, এর দায় ওসির ওপর পড়ে। প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ভুজপুর থানার কাজীরহাটে আওয়ামী লীগের হরতালবিরোধী মিছিলে তা ব চালায় দুর্বৃত্তরা। কাজীরহাট মসজিদে কথিত হামলা ও আগুন দিতে সন্ত্রাসীরা ছুটে আসছে বলে মাইকে ঘোষণা দিয়ে স্থানীয় গ্রামবাসীকে উত্তেজিত করা হয়। এর জের ধরে চারদিক থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ঘেরাও করে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। এতে তিনজন নিহত ও শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়। পুড়িয়ে দেওয়া হয় শতাধিক গাড়ি। হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগের মোহাম্মদ ফোরকান ও মোহাম্মদ রুবেল এবং আওয়ামী লীগের ফারুক ইকবাল নিহত হন। ওই হামলার ঘটনায় জামায়াত ও হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা জড়িত বলে আওয়ামী লীগ অভিযোগ করে আসছে। এ ঘটনায় গত শুক্রবার ১০০ জনকে নির্দিষ্ট করে এবং অজ্ঞাতনামা প্রায় পাঁচ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। এ পর্যন্ত ৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া সবাই জামায়াত-শিবিরের সমর্থক বলে জানা গেছে। ওই দিন আওয়ামী লীগের মিছিলে হামলার উসকানিদাতা জামায়াতের সমর্থক মুসলি্ল বলে পুলিশ কর্মকর্তারা নিশ্চিত হয়েছেন। জড়িত না থাকার দাবি হেফাজতের : ভুজপুরের ঘটনায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের কোথাও হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচি ছিল না বলেও দাবি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার হেফাজতে ইসলামের এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনার সময় ভুজপুর মাদ্রাসার ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। ছাত্র-শিক্ষকেরা মাদ্রাসার ভেতরেই অবস্থান করছিলেন। মাদ্রাসার মুহতামিম ভ্যানগাড়িতে মাইক লাগিয়ে এলাকাবাসীকে শান্ত ও সংযত হতে বারবার ঘোষণা দিচ্ছিলেন, যা ঘটনাস্থলে উপস্থিত সব পক্ষের লোকেরা শুনেছেন।
No comments
Please do not inter any spam